আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): 'অর্গানাইজেশন ফর দ্য লিবারেশন অফ নেশনস'-এর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় 'ইসলামিক কোয়ালিশন পার্টি'-র মহাসচিব মোহাম্মদ-আলী আমানি এই আয়োজনের সাথে মহররমের দিনগুলোর কাকতালীয় মিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি ইরানি জাতির প্রতিরোধ সংগ্রামকে আশুরার আদর্শিক চেতনার উত্তরাধিকার হিসেবে অভিহিত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, আশুরার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত কোনো জাতি কখনোই জোর-জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ‘ইসলামিক কোয়ালিশন পার্টি’র মহাসচিব তাঁর শাহাদাতকে কোনো যাত্রাপথের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং প্রতিরোধের এক নবজাগরণমূলক পথের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা মনে করেছিল যে প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে এই আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া যাবে, তারা চরম ভুল করছে; ঠিক যেমন ‘সাইয়্যেদুশ শুহাদা’ বা শহীদদের সরদারের শাহাদাত ইসলামকে এক শাশ্বত প্রাণশক্তি দিয়েছিল, তেমনি আমাদের শহীদ নেতার পবিত্র রক্তও এই পথকে আগের চেয়ে আরও সুদৃঢ় ও অবিচল করে তুলবে।
পরিশেষে, বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে তিনটি বার্তা পৌঁছে দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য স্বাধীনতা-প্রিয় জাতিগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না; নিপীড়নের মুখে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রতিটি জাতির অবিচ্ছেদ্য অধিকার; এবং ব্রিকস (BRICS) ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মতো আন্তর্জাতিক জোটের কাঠামোর আওতায় স্বাধীনতা-কামী জাতিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার নতুন রূপরেখা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের সাথে এক বৈঠকে মোহাম্মদ-আলি আমানি এর আগে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রাসী নীতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
Your Comment